শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

মিঠা পানির উৎস ও ব্যবহার

 

স্বাদু পানি


স্বাদু পানি বা সুপেয় পানি বা স্বাদু জল বা মিঠা পানি এক ধরনের পানি বা জল যাতে লবণ নেই বা থাকলেও তাতে লবণের পরিমাণ খুবই কম। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট শৈলপ্রাচীর, জলপ্রপাত, হ্রদ, নদী, তুষারপাত, বরফ ইত্যাদি পানিবাহী মাধ্যমগুলো স্বাদু জলের প্রধান উৎসস্থল। মানুষ তৃষ্ণা নিবারণের উদ্দেশ্যে যে জল পান করে, তা-ই স্বাদু জল নামে পরিচিত। সাগর, মহাসাগরের জলে প্রচুর লবণাক্ততা রয়েছে এবং ঐ জল পান করার উপযোগী নয়। তবে মানুষ যা পান করে, তার সবগুলো উৎসই স্বাদু জল হিসেবে স্বীকৃত নয়। কারণ ঐ ধরনের স্বাদু জল পরিষ্কার ও নিরাপদ নয়; জলের সাথে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার ন্যায় অণুজীব লুক্কায়িত অবস্থায় থাকতে পারে। জলের তেষ্টা মেটালেও তা পরবর্তীতে মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। মানুষ যে জল পান করে তা নিরাপদ ও রোগ-জীবাণুমুক্ত এবং তা বোতলজাত হয়ে থাকে। মিষ্ট পানি বলতে স্বাদু জলকেই বুঝায় যা নোনতা জলের বিপরীতচিত্র।




সংজ্ঞার্থ নিরূপণ

সম্পাদনা

যে পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় লবণাক্ততার মাত্রা ৫০০ পিপিএম বা এক মিলিয়নের পাঁচশত ভাগের চেয়ে কম থাকলে তা স্বাদু পানি হিসেবে বিবেচিত হয়।


পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় লবণের পরিমাণ

স্বাদু পানি ঈষৎলোনা পানি লবণাক্ত পানি সোডিয়াম লবণ

< ০.০৫% ০.০৫% – ৩% ৩% – ৫% > ৫%

আবার অন্য তথ্য মোতাবেক যদি পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা এক মিলিয়নের এক হাজার থেকে তিন হাজার ভাগ থাকে তবে তা স্বাদুপানি হিসেবে ধরা হবে।


জল ব্যবস্থাপনা

সম্পাদনা

জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সকল প্রকার প্রাণীর জীবনধারনে জল অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু প্রজাতির পশু-প্রাণী লবণাক্ত জল পান করে জীবনধারন করলেও উদ্ভিদ জগতসহ অধিকাংশ প্রজাতিই সুপেয় পানির উপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীই স্বাদু জল পান করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে থাকে। ব্যতিক্রম হিসেবে রয়েছে মরুভূমির কিছু ইঁদুরজাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী, যারা পানি পান না করেও জীবনধারন করতে পারে।


পৃথিবীতে প্রাপ্ত সকল ধরনের জলের মধ্যে লবণাক্ত জলের পরিমাণই সর্বাধিক। মহাসাগর, সাগর এবং ভূ-গর্ভস্থ জলে লবণাক্ততার পরিমাণ প্রায় ৯৭ শতাংশ। মাত্র ২.৫% থেকে ২.৭৫% জল সুপেয় পানির মর্যাদা পেয়েছে। তন্মধ্যে আবার ১.৭৫% থেকে ২% বরফ, তুষার, হিমবাহে বিদ্যমান রয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ জলের স্তর এবং মাটিতে ০.৭% থেকে ০.৮% মিষ্ট জল রয়েছে। এছাড়াও, ০.০১ শতাংশেরও কম হ্রদ, নদী, খাল-বিল, জলাভূমিতে আছে। স্বাদুপানির ৮৭ শতাংশ হ্রদগুলোতেই বিদ্যমান। তন্মধ্যে - ২৯% আফ্রিকার হ্রদ, ২৩% রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ এবং ১৪% বিশ্বের অন্যান্য হ্রদে রয়েছে। জলাশয়ের মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রক্ষার্থে নদ-নদীগুলোয় স্বল্প পরিমাণে সুপেয় পানি রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাজন নদী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও, বায়ুমণ্ডলে ০.০৪% সুপেয় পানি বাষ্পাকারে ভাসমান অবস্থায় আছে।বিশ্বের অধিকাংশ স্বাদু জলকেই হিমায়িত অবস্থায় বরফপ্রাচীরে আছে। অনেক দেশের এলাকাই সুপেয় পানির অভাবে গুরুতর সমস্যা ভুগছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টসহ মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে।






মহাসাগর, সাগর এবং ভূ-গর্ভস্থ জলে লবণাক্ততার পরিমাণ প্রায় ৯৭ শতাংশ। মাত্র ২.৫% থেকে ২.৭৫% জল সুপেয় পানির মর্যাদা পেয়েছে। তন্মধ্যে আবার ১.৭৫% থেকে ২% বরফ, তুষার, হিমবাহে বিদ্যমান রয়েছে।স্বাদু পানি বা সুপেয় পানি বা স্বাদু জল বা মিঠা পানি এক ধরনের পানি বা জল যাতে লবণ নেই বা থাকলেও তাতে লবণের পরিমাণ খুবই কম। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট শৈলপ্রাচীর, জলপ্রপাত, হ্রদ, নদী, তুষারপাত, বরফ ইত্যাদি পানিবাহী মাধ্যমগুলো স্বাদু জলের প্রধান উৎসস্থল।


পৃথিবীতে মিঠা পানি অর্থাৎ পানীয় জল র স্বাভাবিক উৎস গুলি হল বৃষ্টির জল, কূপ র জল, হ্রদ র জল, নদী, পুকুর, খাল, বিল এবং মাটির নিচে সঞ্চিত জল।

সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে বলে সমুদ্রের পানিকে লোনা পানি বলে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Pages

SoraTemplates

Best Free and Premium Blogger Templates Provider.

Buy This Template