বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০২৩

বিয়ের আগে মেডিকেল পরীক্ষা কেন?

 বিয়ের আগে ডাক্তারি পরীক্ষা কেন? 



রক্ত পরীক্ষা আমাদের সমাজে বিয়ের মাধ্যমে শিশুরা নতুন জীবন শুরু করে। বিয়ের পর তাদের থেকে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের ভুল বা অজ্ঞতার কারণে মাতৃগর্ভে থাকা নতুন প্রজন্ম বা এই পৃথিবীর মুখ দেখেও আমাদের মায়ার বন্ধন ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন কিছু রোগ আছে যেগুলো বংশগত, যেগুলো থেকে বিয়ের আগে সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনেকাংশে বাঁচাতে পারব। বিয়ের আগে যেসব মেডিকেল টেস্ট করা দরকার-


 ১. রক্তের গ্রুপ নির্ণয়: যদি ছেলেটির রক্তের গ্রুপ পজিটিভ, তাহলে মেয়েটির রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হতে হবে। আর ছেলের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে ভালো হয়, মেয়েটির রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে ভালো হয়। কিন্তু পজিটিভ ছেলের সঙ্গে নেগেটিভ গ্রুপের মেয়ের বিয়ে হলে সন্তান জন্মের সময় কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি গর্ভপাত বা শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। যেমন ছেলের ব্লাড পজিটিভ এবং মেয়ের ব্লাড নেগেটিভ হলে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই তবে দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে সমস্যা শুরু হতে পারে। তাই রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি। 

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ-পজিটিভ হলে সন্তানের বিপদ! জানতে ক্লিক করুন এখানে

2. সিবিসি পরীক্ষা: একটি ছেলে বা মেয়ে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা তা জানার জন্য সিবিসি পরীক্ষা complete blood count অর্থাৎ সম্পূর্ণ রক্ত ​​গণনা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সিবিসি পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন, এমসিভি, এমসিএইচসি স্বাভাবিক থাকলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় তবে স্বাভাবিক না হলে অবশ্যই নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরীক্ষায় ছেলে মেয়ে উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে বিয়ে না করাই ভালো। কারণ তারা বিয়ে করলে তাদের এক-চতুর্থাংশ সন্তানও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্মগ্রহণ করে। অন্যদিকে থ্যালাসেমিয়া জিন বাহকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। থ্যালাসেমিয়ার কোনো উপসর্গ বাহ্যিকভাবে দেখা না গেলেও থ্যালাসেমিয়ার জিন দেহের অভ্যন্তরে সুপ্ত থাকে। আর ছেলে মেয়ে উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে বিয়ের পর সন্তানের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। 


3. হেপাটাইটিস ভ্যাকসিন: বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি জেনে রাখা ভালো। কারণ হেপাটাইটিস সেরে গেলেও যদি কোনো মেয়ে B বা C রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে সে তা থেকে সংক্রমিত হয়ে ছেলে সন্তানের শরীরে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিয়ের আগে হেপাটাইটিস এ ও বি ভ্যাকসিন নিতে হবে। এসব সচেতনতা আমাদের কারো কারো জন্য দুঃখের কারণ হতে পারে কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে বিয়ের আগে ডাক্তারি পরীক্ষা করা উচিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Pages

SoraTemplates

Best Free and Premium Blogger Templates Provider.

Buy This Template